Sat. Apr 17th, 2021

gets24.com

Education For All

আদা(Ginger) /আদার উপকারিতা ও অপকারিতা/আদার গুনাগুন ও উপকারিতা

1 min read
আদার (Ginger) উপকারিতা ও অপকারিতা

আদার (Ginger) উপকারিতা ও অপকারিতা

আদা(Ginger) : আদার উপকারিতা ও অপকারিতা/আদার গুনাগুন ও উপকারিতা :-

আদা (Ginger) একটি উদ্ভিদ মূল যা মানুষের মসলা এবং ভেজষ ঔষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মশলা জাতীয় ফসলের মধ্যে আদা হলো অন্যতম।

আদা কুচি বা আদা বাটা আমরা সাধারণত খাবারের স্বাদ বাড়ানোর কাজেই ব্যবহার করে থাকি। আদা খাবারে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের দেহের সুস্থতার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী । এছাড়াও কাঁচা আদা খাওয়ার রয়েছে দারুণ সব উপকারিতা।

# ব্যথা বেদনায় আদা অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে আর্থারাইটিসের সমস্যায় আদা খাওয়া খুবই ভালো। শরীরে কোথাও আঘাত লাগলেও আদা তা তাড়াতাড়ি সারিয়ে দিতে পারে।

 # ক্যানসার প্রতিরোধেও আদার উপকারিতা প্রমাণিত। শরীরের ক্যানসার সেলগুলিকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে আদা। বিশেষ করে ওভারিয়ান ক্যানসার সেল ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে আদার মধ্যে।

# আদা হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। রোজ একটু করে আদা খেলে কিছুদিনের মধ্যেই আপনার হজম ক্ষমতা অনেক উন্নত হয়ে যাবে।

 # মাথা ধরার সমস্যায় আদা অত্যন্ত উপকারী। খুব মাথা ধরলে আদা দেওয়া চা খেলে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়। কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনাকে আরাম দেবে আদা।

# আদার রস শরীর শীতল করে এবং হার্টের জন্য উপকারী।

#  কাশি এবং হাঁপানির জন্য আদার রসের সাথে মধু মিশিয়ে সেবন করলে বেশ উপশম হয়।

# ঠান্ডায় আদা ভীষণ উপকারী। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে। জ্বর জ্বর ভাব, গলাব্যথা ও মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।

# বমি বমি ভাব দূর করতে এর ভূমিকা অপরিহার্য। তাই বমি বমি ভাব হলে কাঁচা আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে মুখের স্বাদ বৃদ্ধি পায়।

# আর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস-এই অসুখগুলোয় সারা শরীরের প্রায় প্রতিটি হাড়ের জয়েন্টে প্রচুর ব্যথা হয়। এই ব্যথা দূর করে আদা। তবে রান্না করার চেয়ে কাঁচা আদার পুষ্টিগুণ বেশি।

# মাইগ্রেনের ব্যথা ও ডায়াবেটিসজনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা। গর্ভবতী মায়েদের সকালবেলা, বিশেষ করে গর্ভধারণের প্রথম দিকে সকালবেলা শরীর খারাপ লাগে। কাঁচা আদা দূর করবে এ সমস্যা।

# দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।  আদার রস দাঁতের মাড়িকে শক্ত করে, দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা জীবাণুকে ধ্বংস করে।

# দেহের কোথাও ক্ষতস্থান থাকলে তা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে আদা। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এজেন্ট, যা যেকোনো কাটাছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত ভালো করে তোলে।

# রক্তের অনুচক্রিকা এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখতেও আদা দারুণ কার্যকর। মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদা শুকিয়ে খেলে বাড়বে হজম শক্তি।

# আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপা রোধে আদা চিবিয়ে বা রস করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া যারা গলার চর্চা করেন তাদের গলা পরিষ্কার রাখার জন্য আদা খুবই উপকারী।

# ঠান্ডায় টনসিলাইটিস, মাথাব্যথা, টাইফয়েড জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হওয়া, বসন্তকে দূরে ঠেলে দেয় আদা। ওভারির ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আদা।

# খেতে একেবারেই ইচ্ছে হচ্ছে না? অসুস্থ বোধ করছেন খাবার দেখলেই? কোনো সমস্যাই নয়। খাওয়ার আগে ১ চা চামচ তাজা আদা কুচি খেয়ে নিন। মুখের রুচি ফিরে আসবে।

# হাতে পায়ের জয়েন্টে ব্যথা হলে সাহায্য নিতে পারেন আদার তেলের। খানিকটা অলিভ অয়েলে আদা ছেঁচে নিয়ে ফুটিয়ে নিন ৫ মিনিট। ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন হাতে পায়ের জয়েন্টে। আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান দূর করে দেবে ব্যথা।

# প্রতিদিন মাত্র ১ ইঞ্চি পরিমানের আদা কুচি খাওয়া অভ্যাস সাইনাসের সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

# হজমে সমস্যার কারণে পেটে ব্যথা হলে আদা কুচি খেয়ে নিন। আদা পেতে গ্যাসের সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে বেশ কার্যকরী।

# বুকে সর্দি কফ জমে গিয়েছে? নিঃশ্বাস টানতে সমস্যা হচ্ছে? ২ কাপ পানিতে আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি যখন অর্ধেক হয়ে আসবে জ্বাল হয়ে তখন ছেঁকে নামিয়ে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করে ফেলুন। বেশ আরাম পাবেন। সর্দি কফের সমস্যা না যাওয়া পর্যন্ত এই আদা চা পান করে চলুন।

# ত্বকে পড়ে যাচ্ছে বয়সের ছাপ? এক কাজ করুন প্রতিদিন সামান্য আদা কাচা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিএইজিং উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহের টক্সিন দূর করে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে অনেকটা সময়।

( Ginger)আদার  কিছু সতর্কতা:

 তবে সব কিছুর মতো অতিরিক্ত আদা গ্রহণ করাও ঠিক নয় :-

ডায়রিয়া: বেশি পরিমাণে আদা খাওয়া হলে ডায়রিয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা খাবারকে দ্রুত বর্জ্যে পরিণত করে এবং তা এক পর্যায়ে ডায়রিয়ায় রূপ ধারণ করে দুর্বলতার সৃষ্টি করে।

গর্ভাবস্থায় অনিরাপদ: ধাত্রীবিদ্যার সূত্রানুসারে, দৈনিক ১,৫০০ মি. গ্রামের বেশি আদা খাওয়া গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এই সমস্যা এড়াতে গর্ভাবস্থায় আদা না খাওয়াই ভালো।

রক্তপাত ঘটাতে পারে: আদাতে আছে ‘অ্যান্টি প্লাটিলেট’ উপাদান। অতিরিক্ত আদা খাওয়া রক্তপাত ঘাটায়। এটাও জানা যায় যে, লবঙ্গ বা রসুনের সঙ্গে গ্রহণ করলে অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

হৃদযন্ত্রের ঝুঁকি: হৃদয় বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা রক্তচাপের জন্য ওষুধ খান তাদের আদা খাওয়া বাদ দেওয়া উচিত। ধারণা করা হয়, অতিরিক্ত আদা খাওয়া অনিয়ন্ত্রিত হৃদগতির সৃষ্টি করে।

গ্যাস ফোলাভাব: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেইটিভ হেলথ’য়ের তথ্য অনুযায়ী আদার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হজমে প্রভাব রেখে গ্যাস ও ফোলাভাবের সৃষ্টি করে।

পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকারক: আদাতে আছে শক্তিশালী উপাদান। যা খালি পেটে খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে হজমে সমস্যা তৈরির পাশাপাশি পেটে অস্বস্তি সৃষ্টি করে। 

মুখে অস্বস্তি: অনেক খাবার অ্যালার্জির সৃষ্টি করে, একে বলা হয় ‘ওরাল এলার্জি সিন্ড্রোম’। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আদার খাওয়ার পরে মুখে জ্বলুনির সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে অনেকেরই জিহ্বা ও মুখ ফোলার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যাদের আলসার আছেঃযারা আলসারে ভুগছেন তাদের মোটেও আদা খাওয়া ঠিক নয়। আদা খেলে আলসারের সমস্যা আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই আলসার থাকলে আদা খাওয়া বন্ধ করুন।

রক্তে সমস্যা থাকলেঃআদা রক্তে প্রদাহ বৃদ্ধি করে থাকে। কিন্তু যাদের হিমোফিলিয়া রক্ত রোগ আছে তাদের জন্য এটি ভয়ংকর হতে পারে। যারা বিভিন্ন রক্ত রোগের ওষুধ খাচ্ছেন, তারা আদা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কম ওজন : যদি আপনি ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করে থাকেন তা হলে আদাযুক্ত খাবার বা আদা চা খাওয়া এড়িয়ে চলুন। আদার মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকে। যা পাকস্থলীর পিএইচ মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে পৌষ্টিকতন্ত্রকে উত্তেজিত করে তোলে।

বিশেষ ওষুধ সেবনের সময়: হাইপারটেনসন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ খেলে আদা খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভাল। আদা রক্তকে পাতলা করে রক্তচাপ কমিয়ে দেয়। তাই সাধারণভাবে আদা খাওয়া উপকারী হলেও অ্যান্টি-কোয়াগুলান্ট, বিটা-ব্লকারস বা ইনসুলিনের মতো ওষুধের প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে আদা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April 2021
M T W T F S S
« Mar    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930